স্কুল হিস্টোরি

বিদ্যালয়ের ইতিহাস

অত্র  প্রতিষ্ঠানটি খাগড়াছড়ি  পার্বত্য জেলার অন্তর্গত মহালছড়ি উপজেলাধীন ৩নং ক্যায়াংঘাট  ইউনিয়নের প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে প্রতিষ্ঠিত একটি মাত্র  উচ্চ বিদ্যালয়। এটি প্রথমতঃ ১৯৭১ ইং  সনে প্রতিষ্ঠিত হয়ে ১৯৭৪ ইং সনে উপ-পরিচালক, মাধমিক ও উচ্চ শিক্ষা পরিদপ্তর, চট্টগ্রাম অঞ্চল,চট্টগ্রাম থেকে নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় হিসেবে ১৯৮৩ ইং পরযন্ত সুচারুভাবে পরিচালিত হয়ে   আসছিল। কিন্তু তখনকার সময়ে পা্র্বত্য চট্টগ্রামের রাজনৈতিক পরিস্থিতি অশান্ত ও অস্থিতিশীল হওয়াতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী বিদ্যালয় টিকে সেনাক্যাম্প হিসেবে ব্যাবহার করার ফলে ১৯৮৩ ইং থেকে বিদ্যালয়ের শ্রেনী কার‌যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তীতে পরিস্থিতি কিছুতা স্বাভাবিক হলে  সেনাবাহিনী বিদ্যালয় থেকে চলে যায় । এমতাবস্থায় বিদ্যালয় এলাকার ৫ জন বিশিষ্ট সমাজসেবক ও শিক্ষানুরাগী ব্যাক্তি (১) বাবু- যাত্রামোহন চাকমা(২) সুরেন্দ্র  লাল কার্বারী (৩) বসুদেব চাকমা(৪) নিহার বিন্দু চাকমা(৫) গয়াসুর চাকমার অক্লান্ত  পরিশ্রম ও ঐকান্তিক প্রচেষ্টায়  পুনরায় বিদ্যালয়টি ১৯৮৮ ইং সনে প্রতিষ্ঠিত করে। শুরু থেকে উক্ত বিদ্যালেয় গৃহটি ছিল মাঠির  দেয়াল (গুদাম ঘর)  দ্বারা টিনের ছাউনী । শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ৬ষ্ট থেকে  ৮ম শ্রেনী পর‌যন্ত মাত্র ৪২ জন।  উল্লেখ্য যে, বিদ্যালয়টি  প্রতিষ্ঠানলগ্নের সময়ে  এলাকার জনসাধারণ  অধিকাংশই ছিল   নিরক্ষর,জুমিয়াচাষী এবং কৃষি জীবি । শিক্ষার পরিবেশ একেবারে নেই বললেই চলে।  এহেন অবস্থায় বিদ্যালয়টি পূনঃপ্রতিষ্ঠার পর এলাকার জনগন আস্তে আস্তে   শিক্ষার মর্ম বুঝতে সক্ষম হওয়ায় ক্রমান্বয়ে  শিক্ষার্থীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেলে উক্ত  স্থান থেকে ১ কিলোমিটার পশ্চিমে একটি পাহাড়ের চুড়ায়  ১৯৯৪ ইং সনে স্থানান্তর করা হয় এবং উচ্চ বিদ্যালয় হিসেবে  ১৯৯৪ ইং সনে ৯ম শ্রেনী খোলার অনুমতি, ১৯৯৫ ইং সনে ১০ম শ্রেনী খোলার অনুমতিসহ ১৯৯৬ ইং সন থেকে এস,এস,সি পরীক্ষায় (বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যাবসা শিক্ষা) অংশগ্রহনের অনুমতি প্রপাপ্ত হয়ে অধ্যাবধি পরযন্ত পরিচালিত হয়ে আসছে। বর্তমানে ১৬ জন শিক্ষক/ শিক্ষীকা ৭জন তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেনীর কর্মচারী কর্মরত এবং ৩২৫ জন ছাত্র/ছাত্রী অধ্যায়নত আছে। বিদ্যালয়টি   প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় বর্তমানে অধিকাংশ অভিভাবক/ জনগন স্বাক্ষর জ্ঞান সম্পন্ন হয়েছে আর শিক্ষার প্রচার ও প্রসার  প্রত্যন্ত অঞ্চল কালো পাহাড় পরযন্ত শিক্ষার সুবাতাস ছড়িয়েছে। বর্তমানে প্রত্যন্ত অঞ্চলে ও গ্রামে গ্রামে সরকারি/বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন করে  অত্র বিদ্যালয় হইতে পাশ করা অনেক শিক্ষার্থী শিক্ষকতা করিয়া আছিতেছেন । সুতরাং সার্বিক বিবেচনায় অত্র  উচ্চ বিদ্যালয়ের অবদান নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয় এবং অতুলনীয়।